বিভক্তি ও পদ
বিভক্তি এবং পদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে নিচের ভিডিওটি দেখতে হবে।
আগেই আমরা জেনেছি যে কতগুলি শব্দ পরপর বসে যদি মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে, তবে সেই ক্ষেত্রে একটি বাক্য গঠিত হয়। অর্থাৎ, একটি বাক্য গঠিত হয় কত গুলি শব্দের সমষ্টি নিয়ে।
কয়েকটি শব্দ কে পর পর বসিয়ে দিলেই মনের ভাব প্রকাশ পেয়ে যাবে না। নিচে দেওয়া উদাহরণটি লক্ষ্য করা যাক।
উদাহরণ:- “বন থাক বাঘ, গাছ থাক পাখি” –
উপরের উদাহরণটি লক্ষ্য করলে বোঝা যাবে যে, এই ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দ গুলো দিয়ে কোন রকম মনের ভাব প্রকাশ পাচ্ছে না। তাই এটা বাক্য নয়।
কিন্তু আমরা যদি বলি- “বনে থাকে বাঘ, গাছে থাকে পাখি” -- এই ক্ষেত্রে শব্দ গুলি পরপর বসে মনের ভাব প্রকাশ করতে পেরেছে। তাই এটি একটি বাক্যে পরিণত হয়েছে।
এই ক্ষেত্রে মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য উপরের বাক্যটির কয়েকটি শব্দের সাথে বিভক্তি যোগ করতে হয়েছে। নিচে সেটা দেখানো হলো-
বনে = বন + এ (এ বিভক্তি যুক্ত হয়েছে)
থাকে = থাক + এ (এ বিভক্তি যুক্ত হয়েছে)
বাঘ = বাঘ (শূন্য বিভক্তি)
গাছে = গাছ + এ (এ বিভক্তি যুক্ত হয়েছে)
থাকে = থাক + এ (এ বিভক্তি যুক্ত হয়েছে)
পাখি = পাখি (শূন্য বিভক্তি)
*বিভক্তি নানা ধরনের হতে পারে যেমন- এ, তে, কে, রে, এর, র, য় এবং শূন্য বিভক্তি।
* শব্দের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে পদ তৈরি হয়।
*শব্দের সঙ্গে বিভক্তিযোগে নাম পদ তৈরি হয়।
*ধাতুর সঙ্গে বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ তৈরি হয়।
শব্দ + বিভক্তি = নাম পদ
ধাতু + বিভক্তি = ক্রিয়াপদ
প্রশ্ন উত্তর
** প্রশ্ন:- বিভক্তি কাকে বলে ?
** উত্তর:- যে বর্ণ বা বর্ণ সমষ্টি, কোনো শব্দ বা ধাতুর শেষে বসে পদ তৈরি করে তাকে বিভক্তি বলে।
** বিভক্তি যোগে কিভাবে নাম পদ এবং ক্রিয়া পদ পাওয়া যায় ?
** উত্তর:- কোন শব্দের শেষে বিভক্তি যুক্ত হলে নাম পদ তৈরি হয় এবং ধাতুর শেষে বিভক্তি যুক্ত হলে ক্রিয়াপদ তৈরি হয়।
** প্রশ্ন:- “অ” বিভক্তি র অপর নাম কি ?
** উত্তর:- “অ” বিভক্তি র অপর নাম শূন্য বিভক্তি।
** প্রশ্ন:- পদ কাকে বলে ?
** উত্তর:- বিভক্তিযুক্ত শব্দকে বা ধাতুকে পদ বলা হয়।
** প্রশ্ন:- পদ কয় প্রকার ও কি কি ?
** উত্তর:- পদ পাঁচ প্রকার যথা-
ক) বিশেষ্য পদ
খ) বিশেষণ পদ
গ) সর্বনাম পদ
ঘ) অব্যয় পদ
এবং ঙ) ক্রিয়াপদ
No comments:
Post a Comment